স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের সামনে খুব ভালো সময় না, কঠিন সময়। যুদ্ধটা আমাদের খুব ক্ষতি করছে। সামনে তেলের দাম বেড়ে যাবে, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে। সেগুলো সয়ে নিয়ে আমাদের আগাতে হবে। এ অবস্থায় কেউ যেন বিশৃঙ্খলা বা মব সৃষ্টির সুযোগ না নেয়, সে বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে। যেকোনো মব শক্ত হাতে দমন করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নেহা নদী পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। “খাল কাটা হলে সারা, দূর হবে বন্যা-খরা” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, যুদ্ধ লেগেছে সে কারণে তেলের সরবরাহ কম, কিন্তু পাম্প ভাঙচুর করা সমীচীন নয়। মবকে আমরা কঠোর হস্তে দমন করব। গায়ের জোরে আইনের বাইরে কোনো কাজ করতে দেব না।
তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। কেউ দুর্নীতি বা অনিয়ম করলে তাকে ক্ষমা করা হবে না। তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং এলাকায় মাছ ও হাঁস পালনের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এই খাল খনন কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পের প্রতিটি টাকা যেন যথাযথভাবে জনগণের কল্যাণে ব্যয় হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।মির্জা ফখরুল বলেন, একটি দলের নেতারা এবার বেহেশতে নিতে পারলো না। আমরা কাজ করে বেহেশতে যাবো। ধর্মকে ব্যবহার করা যায় না। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ ধার্মিক। তারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা পছন্দ করে না । আমরা কাজ করতে এসেছি। কাজ করে যাবো। একটি রাজনৈতিক দল মা-বোনদের বেহেশতে নেওয়ার কথা বলে ভুলিয়ে দেয়। এসবে ভুলবেন না। আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া বেহেশতে যাওয়া যাবে না। সৎ থাকতে হবে, হালাল রুজি খেতে হবে। না হলে বেহেশতে যাওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, গম ঝড় বৃষ্টিতে পড়ে গেছে। আলু বৃষ্টিতে শুয়ে পড়েছে। আমাদের কৃষকের ভাগ্য এটাই। এসব সমস্যা আমরা বুঝি। নির্বাচনের আগে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম কৃষি ঋণ মওকুফের। আমরা করে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের সাহায্য হবে এমন কাজগুলো করছেন। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। সারাদেশে কয়েক কোটি নারীকে কার্ড দেওয়া হবে। এটার মাধ্যমে তারা সহযোগিতা পাবে। আমাদের সব প্রজেক্টগুলো সম্পন্ন করা হবে। গোটা দেশে ২০ হাজার খাল খনন করা হবে।
নেহা নদীর পুনঃ খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এছাড়া জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলল হোসেন, জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।











